স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ বা সীমাবদ্ধতা গুলি আলোচনা করো | Discuss the main challenges or constraints to sustainable development

Photo of author

Follow G-News

অন্যদের শেয়ার করুন

টেকসই উন্নয়ন বা স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলি হল অস্থিতিশীলতা, দরিদ্রদের প্রান্তীয়করণ, সামাজিক অসাম্য, সরকারী নীতির দুর্বল বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক দুর্বলতা, নাগরিক সমাজ ও সরকারের মধ্যে অপর্যাপ্ত যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে জনগণের সীমিত সচেতনতা।

যে সকল কারণে অনেক দেশ টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সেগুলি হল-

(১) দারিদ্রতা (Poverty): দারিদ্রতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য, মানসিক ও নৈতিক সংকটের ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। বেশিরভাগ অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশই দারিদ্রতার কারণে যথোপযুক্ত স্থিতিশীল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

নিয়মিত আপডেট পেতে Follow Now

(২) ঋণগ্রস্ততা (Debt): একটি দেশ যখন তার বিভিন্ন খাতে বিল পরিশোধ করতে অক্ষম হয় তখন সেই দেশে ঋণসংকট সৃষ্টি হয়। দেশের নেতারা রাজনৈতিক কারণে এই বিষয়টিকে উপেক্ষা করলেও এটা একটা সংকটে পরিণত হয়। বিল থেকে প্রাপ্ত অর্থের ভিত্তিতেই উন্নয়নমূলক ক্রিয়াকলাপগুলি সম্পাদিত হয়। অনেক দেশ জনগণের কাছ থেকে পর্যাপ্ত কর সংগ্রহ করতেও ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, দারিদ্র দূরীকরণ বা অন্যান্য পরিকাঠামোগত সুযোগ সুবিধাগুলি প্রদান করতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে যা টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

(৩) জলবায়ু সম্পর্কিত বিপর্যয় (Climate related Disester): খরা, বন্যা, মহামারী, অতিমারী, রোগ ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলি টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার সাফাল্যের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলির কাছে এগুলি বিশেষ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে উন্নয়নমূলক ক্রিয়াকর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে।

আরও পড়ুন:  মানব উন্নয়নের সীমাবদ্ধতা গুলি আলোচনা করো | Barriers to Human Development

(৪) যুদ্ধ (War): সশস্ত্র সংঘাত, বিদেশী আক্রমণ পরিবেশ ও মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। যুদ্ধের মারণাস্ত্রগুলি একদিকে যেমন পরিবেশকে দূষিত করছে অন্যদকে তেমনি সামরিক খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে। স্থিতিশীল উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাই এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে প্রতিপন্ন হচ্ছে।

(৫) জনসংখ্যা বৃদ্ধি (Population Growth): অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধাস্বরূপ। দারিদ্র, বেকারত্ব, অপুষ্টি, অশিক্ষা, অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি, দূষণ সমস্যা, বস্তি সমস্যা প্রভৃতির কারণ হল অত্যধিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। তাই কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, খাদ্য উৎপাদন, জাতীয় আয়ের সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সামঞ্জস্য না থাকলে সেই দেশের টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।

(৬) পরিবেশগত অবনতি (Environmental Degradation): ক্রমাগত প্রাকৃতিক সম্পদের অবক্ষয়, বৃক্ষচ্ছেদন, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি বিষয়গুলি স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধাস্বরূপ।

(৭) বিশেষ প্রযুক্তির অভাব (Lack of Specialized Technology): টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যে ধরনের পরিবেশবান্ধব আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন তার অভাব টেকসই উন্নয়নের অন্যতম বাধা। বিশ্বের পরিবেশগত সমস্যাগুলির প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সক্ষম এমন প্রযুক্তির বিকাশ না ঘটানো পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্তরে টেকসই উন্নয়ন কখনই সম্ভব নয়।

(৮) বৈষম্য বৃদ্ধি (Increase in inequality): স্থিতিশীল উন্নয়ণের অন্যতম আরেকটি লক্ষ্য হল সামাজিক বৈষম্য হ্রাস করা। বিভিন্ন কার্যাবলী গৃহীত করার পরেও বৈষম্য এর মতো সমস্যা গুলি মাথা চড়া দিয়ে বেড়ে উঠছে। বর্তমান যুগে সমাজের মধ্যে নানা বিষয়ে বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেমন – আয়ের দিক থেকে, সম্পদগত দিক থেকে, পোশাক এর দিক থেকে প্রভৃতি। এছাড়াও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিকে নজর দিলেও আমরা বৈষম্য লক্ষ্য করতে পারবো। অর্থাৎ প্রযুক্তির প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করেও বিশ্বব্যাপী মানুষকে একাধিক ভাগে ভাগ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  মানব উন্নয়নের সূচকগুলি আলোচনা করো | Key Indicators of Human Development

(৯) সাংস্কৃতিক বাধা (Cultural Barriers): মাঝে মাঝে সাংস্কৃতিক নিয়ম-কানুন গুলিও স্থিতিশীল উন্নয়ন এর বাধা বা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায়। যেমন – কিছু সময় অতীতের কুসংস্কার এর কারণে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব হয় না, এবং সেই অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর তার প্রভাব পড়ে। এছাড়াও, ভাষা গত বৈষম্যএর কারণেও কোন এক অঞ্চলের স্থিতিশীল উন্নয়ন সম্ভব হয় না।

(১০) শিক্ষার হার (Rate of Education) : দেশ জুড়ে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলেও বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো এখনো পর্যন্ত পৌঁছায়নি, ২০১৫ সালের কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের প্রায় ২৮.৫ শতাংশ শিশু তাদের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যার ফলে সমাজ জনসচেতনতার দিক থেকে পিছিয়ে থাকছে। ফলস্বরূপ, প্রয়োজনীয় শিক্ষার অভাবের কারণে বিশ্বের বহু অঞ্চলের মধ্যে এখনও পর্যন্ত লিঙ্গবৈষম্য, নারী নির্যাতনের মতো নানা ধরনের সামাজিক বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়, এছাড়াও সেই অঞ্চল গুলির মধ্যে শিক্ষার অভাবে অপরাধমূলক কাজের প্রবণতাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।


WBEG

Leave a Comment

error: Content is protected !!