শনি গ্রহের রহস্য: গবেষণায় ধরা পড়লো শনি গ্রহের ঋতুভিত্তিক শক্তির ভারসাম্যহীনতা

Photo of author

Follow G-News

Saturns Energy Imbalance : শনি গ্রহের নতুন রহস্য

অন্যদের শেয়ার করুন

শনি গ্রহ সৌরজগতের ষষ্ঠ গ্রহ এবং বৃহস্পতির পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। এটি মূলত তার মনোমুগ্ধকর রিং সিস্টেমের জন্য বিখ্যাত, যা বরফ, ধূলিকণা এবং ক্ষুদ্র পাথরের টুকরো দিয়ে গঠিত। শনির ব্যাস প্রায় ১২০,৫৩৬ কিলোমিটার এবং এটি গ্যাস জায়ান্টদের মধ্যে অন্যতম। শনি গ্রহটি মূলত হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম দিয়ে গঠিত, এবং এর পৃষ্ঠে কোনপ্রকারে মৃত্তিকা বা ভূমিরুপ নেই।

আকাশের নক্ষত্রের মধ্যে শনি এক রহস্যময় গ্রহ। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শনির পৃষ্ঠে ঋতুভিত্তিক একটি শক্তির ভারসাম্যহীনতা বিরাজ করছে, যা গ্রহটির আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি “নেচার কমিউনিকেশনস” জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে শনির বড় কক্ষপথের উপকেন্দ্রিকতা (orbital eccentricity) এর শক্তি সরবরাহকে ঋতুভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে।

শক্তি ভারসাম্যহীনতা কি?

শনি গ্রহ হল একটি গ্যাসীয় গ্রহ, যেটি সাধারনত সূর্যের আলো গ্রহণ করে উত্তপ্ত হয় এবং বিকরণ করে ঠান্ডা হয়, ক্যাসিনি মহাকাশযানের ডেটা ব্যবহার করে হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা শনি গ্রহের বিভিন্ন দিক গবেষণা করতে গিয়ে গবেষকরা লক্ষ্য করলেন যে, শনির গ্রহণ করা শক্তি এবং নির্গত শক্তির পার্থক্য ঋতুভেদে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়ে থাকে।

এইরকম হওয়ার মূল কারণ হল গ্রহের কক্ষপথ, শনি গ্রহের কক্ষপথ পৃথিবীর মতো প্রায় বৃত্তাকার নয় এটি উপবৃত্তাকার প্রকৃতির – যা গ্রহের সূর্যের থেকে দূরত্ব প্রায় ২০ শতাংশের পার্থক্য সৃষ্টি করে।

গ্রহটি যত সূর্যের কাছাকাছি থাকে, তত অনেক বেশি বিকিরণ গ্রহণ করে যা ঋতুভিত্তিক শক্তির ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।

গ্রহবিজ্ঞানের এর তাৎপর্য

শনির এই নতুন অনুসন্ধান শক্তির অসামঞ্জস্য গ্যাস জায়ান্ট গ্রহগুলির বৃদ্ধির এবং পরিবর্তনের বিষয়ে গভীর জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের পৃথিবীর আবহাওয়ার বিষয়ে নতুন দৃষ্টিকোণ দেবে, যেখানে শক্তির ভারসাম্যহীনতা কম হলেও পুরোপুরি শূন্য নয়। নেপচুন এবং ইউরেনাস গ্রহের অজানা রহস্য উদঘাটনেও এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ক্যাসিনি মিশনের অবদান

ক্যাসিনি প্রোব, যা ১৯৯৭ সালে চালু হয়েছিল এবং ২০১৭ সাল পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছিল, এই অনুসন্ধানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং ইতালীয় মহাকাশ সংস্থা একসঙ্গে এই মিশনটি শুরু করা হয়েছিল।

এই গবেষণা গ্রহবিজ্ঞানে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং সৌরজগতের বৃহত্তম গ্যাস জায়ান্টগুলি কীভাবে বিকশিত এবং পরিবর্তিত হয় সে সম্পর্কে আমাদের নতুন ধারণা প্রদান করেছে।

Source: gktoday, sciencealert

Leave a Comment