ভূগোল নিয়ে পড়লে কী কী কেরিয়ার অপশন আছে? কী কী চাকরি পাওয়া যাবে? দেখে নিন

Photo of author

Follow G-News

Career Options in Geography After Graduation

অন্যদের শেয়ার করুন

রাজ্যজুড়ে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই বিদ্যালয় গুলিতে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীর আর কিছুদিন পরেই কলেজের আবেদন ফর্ম ফিলাপ করবে। অনেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য মূল বিষয় হিসাবে কলেজে ভূগোল নিতে চলছে। বর্তমানে সবার অন্তরে প্রশ্ন এসেই থাকে ভূগোল পড়ার কি কেরিয়ার অপশন রয়েছে? আজকের প্রতিবেদনটির মাধ্যমে ভূগোল নিয়ে পড়ার পর কোন কোন কেরিয়ার অপশন রয়েছে সেগুলি নিয়েই আলোচনা করব।

ভূগোল শুধু একটি বিষয় নয়, এর বিস্তার প্রযুক্তি বিজ্ঞান থেকে সেই ইতিহাস পর্যন্ত রয়েছে। ভূগোল শুধু কোন স্থানের প্রাকৃতিক দৃশ্য বা ভৌগলিক গঠনকে তুলে ধরে, তুলে ধরে সেই স্থানের ইতিহাসও, সেই স্থানের বিজ্ঞানও।

ভূগোল নিয়ে যত উচ্চশিক্ষার দিকে পা-বাড়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা, ততই ভূগোল এর বিভাগ বাড়তে থাকে, আর তখনই ভূগোল এর কেরিয়ার অপশনও বাড়তে থাকে। ভূগোল নিয়ে পরে তুমি শুধু একজন শিক্ষক বাদে আরও বিভিন্ন বিভাগে নিজের দক্ষতার প্রভাব ফেলতে পারো। যেমন – একজন রিসার্চ স্কলার হয়ে, একজন ভূমি পরীক্ষক হয়ে, জলবায়ু দপ্তরে এবং আরও অনেক বিভাগে।

কলেজ ভূগোল – কোর্স Details

উচ্চমাধ্যমিক পাশ একজন পড়ুয়া তার উচ্চশিক্ষার জন্য যেকোন কলেজ থেকে ভূগোল নিয়ে B.A এবং B.SC প্রোগ্রামে যুক্ত হতে পারে। কোর্স গুলির সময়সীমা ছিল ৩ বছর, কিন্তু বর্তমানে NEP এর নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী কলেজ এর কোর্স এর সময়সীমা ৩ থেকে ৪ বছর করা হয়েছে। একজন পড়ুয়া এখন ৪ বছর ব্যতীত সময় ধরে ভূগোল নিয়ে B.A এবং B.SC পড়বে।

এখন পড়ুয়ারা কলেজের এই ৪ বছর কোর্স সমাপ্ত করার পর ভূগোল বিভিন্ন বিভাগ নিয়ে পড়তে পারবে। সদ্য নতুন কিছু কোর্স এর চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে, সেগুলি নিয়েও আলোচনা করব।

ভূগোল এর বিভাগ/শাখাসমূহ

ভূগোল বিষয়টি হল একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র, যার বহু শাখা বা বিভাগ রয়েছে। ভূগোলকে মূলত দুটি বিভাগে বিভক্ত করা যায়, যেমন – প্রাকৃতিক ভূগোল ও মানবীয় ভূগোল। এই দুটি বিভাগ আবার আরও বহু উপবিভাগে বিভক্ত। এছাড়াও বর্তমানে কিছু প্রয়োজনীয়তার দরুন বহু বিভাগকে ভূগোল এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক ভূগোল

  • জলবায়ু ভূগোল (Climatology)
  • ভূ-আকৃতিবিদ্যা (Geomorphology)
  • জীবভূগোলঃ (Biogeography)
  • হাইড্রোলজিঃ (Hydrology)
  • গ্লেসিওলজিঃ (Glaciology)
  • সমুদ্র ভূগোল (Oceanography)
  • পেডোলজিঃ (Pedology)
  • আবহাওয়া ভূগোল (Meteorology)
  • পরিবেশগত ভূগোল (Environmental Geography)

মানবীয় ভূগোল

  • সাংস্কৃতিক ভূগোলঃ (Cultural Geography)
  • অর্থনৈতিক ভূগোলঃ (Economic Geography)
  • নগর ভূগোল (Urban Geography)
  • জনসংখ্যা ভূগোল (Population Geography)
  • রাজনৈতিক ভূগোল (Political Geography)
  • সামাজিক ভূগোল (Social Geography)
  • পল্লী ভূগোল (Rural Geography)
  • স্বাস্থ্য ভূগোল (Health Geography)
  • আঞ্চলিক ভূগোল (Regional Geography)

ভৌগলিক কৌশল (Geographic Techniques)

  • Cartography
  • GIS
  • Remote Sensing
  • Spatial Sensing
  • Geostatistics

ভূগোল এর এই বিভাগ বা শাখা গুলির অধীনেই পড়ুয়াদের জন্য বহু কেরিয়ার অপশন বেরিয়ে আসে।

ভূগোল অনার্স কেরিয়ার অপশন

ভূগোল এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন শাখা বা উপশাখা গুলির কারণে একজন ভূগোল পড়ুয়ার কাছে শিক্ষক এর পার্শ্ববর্তী বহু কেরিয়ার অপশন থাকে। যেমন –

১) ভূগোল এর মূল বিভাগ প্রাকৃতিক ভূগোল এবং মানবীয় ভূগোল এর অধীনে বহু কেরিয়ার অপশন রয়েছে। যেমন – Climatologist, Geomorphologist, Biogeographer, Hydrologist, Glaciologist, Oceanographer, Pedologist, Meteorologist, Cultural Geographer, Economic Geographer, Urban Planner, Population Geographer, Political Geographer, Social Geographer, Rural Geographer, ভূগোল পড়ুয়া হিসাবে গ্রাজুয়েশন এর পর আপনি এইসব কেরিয়ার অপশন গুলি বেছে নিতে পারবে।

২) ভৌগলিক কৌশল নিয়ে যদি কেরিয়ার গড়তে চাও, তবে রয়েছে কিছু কেরিয়ার অপশন, যেমন – Cartographer, GIS Specialist, Remote Sensing Analyst, Spatial Analyst এবং Geostatistician।

৩) এছাড়াও একজন ভূগোল গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রিসার্চ পার্সন, Environmental Consultant, নগর ও অঞ্চলিক পরিকল্পক, Policy Advisor, টূর গাইড, Travel Consultant, এবং একজন সার্ভেয়র হিসাবে নিজের কেরিয়ার এর দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ভারতের বিভিন্ন NGOs, সংস্থা, Govt এবং প্রাইভেট সেক্টর এর মধ্যে যোগ্যতা এবং স্কিল এর ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়।

ভারতে প্রচলিত কেরিয়ার অপশন

এইসমস্থ কেরিয়ার গুলির মধ্যে বেশ কিছু কেরিয়ার ভারতে বিশেষ ভাবে প্রচলিত এবং এই গুলির জন্য ক্রমাগত চাহিদা বেড়ে চলছে।

মানচিত্র (Cartography)জরিপ কার্য (Survey)
নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদশহর বা নগর পরিকল্পনাকার
জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্লেষকভূ-স্থানিক বিশ্লেষক
ভূতত্ত্ববিদGIS বিশেষজ্ঞ
জলবায়ু বিশেষজ্ঞজলবিদ
অবস্থান বিশ্লেষকআবহাওয়াবিদ
দূষণ বিশ্লেষকজল সংরক্ষণ কর্মকর্তা
ভ্রমণ ও পর্যটন পরিকল্পনাকারী এবং উপদেষ্টামৃত্তিকা সংরক্ষণবিদ
রিমোট সেন্সিং বিশ্লেষকভূতাত্ত্বিক (Geostatistician)

একজন গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করা পড়ুয়া তার পরবর্তী ধাপের জন্য ভারতের আগামী চাহিদা ভিত্তিক এই কেরিয়ার অপশন গুলি বেছে নিতে পারে।

FAQs

ভূগোল অনার্স করতে কত শতাংশ লাগে?

উচমধ্যমিক এর মধ্যে মূলত ৫০ শতাংশ মার্কস থাকলেই অনার্স নিয়ে পড়া যায়, তবে বিভিন কলেজে ভর্তির জন্য মার্কস এর শতাংশ বিভিন্ন দরকার পরে থাকে।

ভূগোল নিয়ে পড়লে কি কি হওয়া যায়?

ভূগোল নিয়ে পড়লে একজন শিক্ষক/প্রফেসর, একজন রিসার্চার, একজন GIS বিশেষজ্ঞ, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, জলবিদ এবং আরও অনেক, সব গুলি এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

ভূগোল পড়ব কেন?

ভূগোল নিয়ে পড়া শুধু পৃথিবী নিয়ে জানা নয়, ভূগোল পড়ার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। ভূগোল আমাদের পৃথিবীর গঠন, প্রাকৃতিক সম্পদ, আবহাওয়া, এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দেয়। ভূগোল মানুষ ও সমাজের মধ্যে সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বিভিন্নতা, এবং জনসংখ্যার পরিবর্তনশীলতা বোঝাতে সাহায্য করে। ভূগোলের জ্ঞান বিভিন্ন পেশার ক্ষেত্রে যেমন পরিকল্পনা, পরিবেশ বিজ্ঞান, আবহাওয়া পূর্বাভাস, এবং পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ। ভূগোল বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা যেমন জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার উপায় খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। ভূগোল পড়লে বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, সম্পদ, এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়, যা আন্তর্জাতিক সচেতনতা বাড়ায়। ম্যাপ এবং জিপিএস ব্যবহারের মাধ্যমে সঠিকভাবে স্থানে পৌঁছানোর দক্ষতা অর্জন করা যায়। এই সব কারণগুলো ভূগোল পড়াকে একটি অর্থবহ ও উপকারী বিষয় হিসেবে প্রমাণ করে।

ভূগোল নিয়ে পড়লে কি কি হতে পারে?

ভূগোল নিয়ে পড়লে বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পেশার সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ হয়ে আসে। একজন ভূগোলবিদ হতে পারা যায়, যারা প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং মানব সমাজের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন। এছাড়া নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, এবং ভূমিকম্প পূর্বাভাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত হওয়া যায়। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি, আবহাওয়া বিজ্ঞানী, মানচিত্রবিদ, এবং পরিবহন পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করার সুযোগও থাকে। পর্যটন শিল্পেও ভূমিকা রাখা যায়, যেখানে বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Comment