নদীর পুনর্যৌবন লাভ : সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার পরিবর্তন হলে বা কোন প্রাকৃতিক কারণের ফলে ভূপৃষ্ঠ হঠাৎ উত্থিত হলে, নদীর ক্ষয় কাজের শক্তি বেড়ে ওঠে, যার ফলে নদী পুনরায় ক্ষয় কাজ করতে থাকে। এইভাবে নদীর বার্ধক্য পর্যায় থেকে আবার নতুন ভাবে ক্ষয় কাজ করাকে নদীর পুনর্যৌবন লাভ বলে। নদীর পুনর্যৌবন ঘটার ফলে মাঝে মাঝে পুরনো উপত্যকার মধ্যে নতুন ভূমিরূপ গড়ে উঠতে দেখা যায়।
পুনর্যৌবন লাভের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ : নদীর পুনযৌবন লাভ মূলত ভূমির ঢালের পরিবর্তনের কারণে ঘটে। এর ফলে ওই অঞ্চলে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন বিভিন্ন ভূমিরুপের সৃষ্টি লক্ষ্য করা যায়। যেমন –
(i) নিকবিন্দু : ভূমিরুপ ও নদী পুনযৌবন লাভ করলে নদী দ্রুত নিন্মক্ষয় করতে শুরু করে। ফলে নতুন ও পুরোনো উপত্যকার সংযোগস্থলের মধ্যে এক খাঁজের সৃষ্টি হয়, আর একে নিকপয়েন্ট বা নিক বিন্দু বলে।
বৈশিষ্ট্য : (ক) এই ভূমিরুপ নদীর পুনর্যৌবনকে নির্দেশ করে।
উদাহরণ : নর্মদা নদীর ওপর গঠিত ধুয়াধর জলপ্রপাত নিক পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে।
(ii) নদীমঞ্চ : নদী ও ভূমিভাগের পুনর্যৌবন ঘটলে দ্রুত নিন্মক্ষয়ের মাধ্যমে পুরোনো উপত্যকার মধ্যে নতুন সৃষ্টি করে, ফলে নতুন উপত্যকার দু-পাশে পুরোনো উপত্যকা মঞ্চের ন্যায় অবস্থান করে একে নদী মঞ্চ বলে।
উদাহরণ : ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, গঙ্গা নদীর গতিপথে এরূপ ভূমিরুপ লক্ষ্য করা যায়।
(iii) কর্তিত বা খোদিত নদীবাঁক : ভূমিভাগ ও নদীর পুনর্যৌবন লাভ হলে পরিণত পর্যায়ে যেসমস্থ নদীবাঁক সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলি নতুন করে নিন্মক্ষয়ের মাধ্যমে গণহীর উপত্যকায় পরিণত করে এবং নদী পুরাতন শিলার ওপর সিএ প্রবাহিত হয়। এই ধরনের নদীবাঁককে কর্তিত নদী বাঁক বলে।
উদাহরণ : দাক্ষিনাত্যের গোদাবরী, কৃষ্ণা, ভীমা প্রভৃতি নদীর গতিপথে এই ধরনের ভূমিরুপ গড়ে উঠতে দেখা যায়।
(iv) প্রাকৃতিক সেতু : নদীর পুনর্যৌবন লাভের ফলে সৃষ্ট কার্তিত নদী এর পার্শ্বভাগে ক্ষয়ের ফলে গুহার সৃষ্টি হয়ে থাকে। আর পরবর্তী সময়ে এই গুহা ক্রমাগত ক্ষয়ের ফলে পরস্পর একই রূপ দুটি গুহা যুক্ত হলে গুহার উপরি অংশটি সেতুর আকার ধারণ করে একে প্রাকৃতিক সেতু বা খিলান সেতু বলে।
উদাহরণ: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রেইনবো ব্রিজ প্রাকৃতিক সেতুর উদাহরণ।